অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ২৯ বার পঠিত
বিলাসবহুল আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের পরিধি বাড়াতে ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে র্যাংগস প্রপার্টিজ লিমিটেড। এ অর্থ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সংগ্রহ করতে চায় র্যানকন হোল্ডিংসের এই সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
নতুন প্রকল্পের উন্নয়ন, চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ করা এবং বিদ্যমান ঋণের একটি অংশ পরিশোধে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে নতুন আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রকল্প চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
এ লক্ষ্যে র্যাংগস প্রপার্টিজ ইতোমধ্যে লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরি লিমিটেডকে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর অ্যারেঞ্জার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। প্রস্তাবিত শেয়ার হবে রিডিমেবল, ক্রমপুঞ্জীভূত লভ্যাংশযুক্ত এবং নন-কনভার্টিবল। অর্থাৎ নির্ধারিত শর্তে এসব শেয়ার মেয়াদ শেষে ফেরতযোগ্য হবে, বকেয়া লভ্যাংশ জমা হতে থাকবে এবং সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করা যাবে না।
ইস্যুটির বিপরীতে বন্ধক ও করপোরেট গ্যারান্টি থাকবে। করপোরেট গ্যারান্টি দেবে বাংলাদেশে সুজুকি মোটরসাইকেলের একক পরিবেশক র্যানকন মোটর বাইকস লিমিটেড।
র্যাংগস প্রপার্টিজের রিয়েল এস্টেট বিভাগের ডিভিশনাল ফাইন্যান্স বিজনেস পার্টনার সাদাত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, আবাসন প্রকল্পে শুরুতেই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয় এবং এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগে। তাই প্রচলিত ব্যাংকঋণের বাইরে অর্থায়নের উৎস বাড়াতে প্রেফারেন্স শেয়ারকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম ও নগদ অর্থপ্রবাহের সঙ্গে অর্থায়নের কাঠামোর সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হবে।
লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরির পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, শুধু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর না করে প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত বন্ধক ও করপোরেট গ্যারান্টির প্রয়োজন হয়।
তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের সুযোগও রাখা হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় ধরনের বিনিয়োগকারী এতে অংশ নিতে পারবেন। শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগপণ্যে উল্লেখযোগ্য তারল্য থাকায় এ ধরনের বিকল্প যুক্ত করা হয়েছে।
ইস্যু ব্যবস্থাপকের নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্রেফারেন্স শেয়ারে সম্ভাব্য লভ্যাংশের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে এ হার সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১২ শতাংশের মধ্যে থাকবে। প্রতি ছয় মাস পরপর পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ডের ভিত্তিতে লভ্যাংশের হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য হবে ২ হাজার টাকা। মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। শেয়ারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর বা ৬০ মাস।
সংগৃহীত অর্থ দিয়ে চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ করা, বিদ্যমান ঋণের আংশিক পরিশোধ এবং নতুন আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের উন্নয়ন করা হবে।
কোম্পানি ও ইস্যু ব্যবস্থাপকের সূত্র অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্প ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে র্যাংগস প্রপার্টিজ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক ডজন প্রকল্প উন্নয়নাধীন রয়েছে।
কোম্পানির আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে র্যাংগস প্রপার্টিজের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৩৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৬৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং নিট মুনাফা ছিল ১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
২০২৫ সালের শেষে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে কোম্পানিটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের কাছে ঋণের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ১২৯ কোটি টাকা।
প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু ও নতুন বিনিয়োগের পরবর্তী বছরে কোম্পানিটির রাজস্ব ৪৭৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আর্থিক পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে নিট মুনাফা বেড়ে ৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকায় উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের হিসাবের তুলনায় এ পূর্বাভাস অনুযায়ী রাজস্ব প্রায় ৫৮৬ শতাংশ এবং নিট মুনাফা প্রায় ৩৯৩ শতাংশ বাড়তে পারে।
পরবর্তী পাঁচ বছরে কোম্পানিটির রাজস্ব ৯৮৪ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ২৪৬ কোটি টাকায় পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরির পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, কোম্পানিটির সম্পদের ভিত্তি শক্তিশালী। পরিকল্পিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব ও মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত র্যাংগস প্রপার্টিজ মূলত প্রিমিয়াম আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে কাজ করছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক স্থাপত্য, টেকসই উন্নয়ন এবং উন্নত আবাসন সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিলাসবহুল আবাসন ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি র্যানকন গ্রিন ইনিশিয়েটিভের আওতায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমও পরিচালনা করছে কোম্পানিটি।
প্রস্তাবিত ২৫০ কোটি টাকার অর্থায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন প্রকল্প চালু, চলমান প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বাড়তি অর্থের জোগান পাবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে রাজস্ব ও মুনাফা বৃদ্ধির পূর্বাভাস নির্ভর করবে বিনিয়োগ বাস্তবায়ন, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং আবাসন বাজারের পরিস্থিতির ওপর।
Posted ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com